ফেনীতে শুক্রবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যারা ভয় দেখায়, তারা প্রকৃতপক্ষে মতলববাজ। আমরা কথায় নয়, কাজে প্রমাণ দিয়ে দেখাবো।” তিনি বলেন, কিছু মহল প্রচার করছে যে জামায়াত ক্ষমতায় এলে কওমি মাদরাসা বন্ধ হবে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই বর্তমান সমাজে শিক্ষার মূল স্তম্ভ হিসেবে টিকে আছে।
ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, যুবসমাজকে মর্যাদাসম্পন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। “আমরা বেকার ভাতা দিয়ে অপমান করতে চাই না। প্রত্যেক যুবকের হাতে দেশ গড়ার সুযোগ থাকবে। যুবকেরা বলবে—আমিই বাংলাদেশ, দেশ আমার,” তিনি বলেন।
নারী অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতিও তিনি দেন। তিনি বলেন, “অনেকে ভাবেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীরা ঘরের বাইরে বের হতে পারবে না। আমাদের মা-বোনরা বর্তমানে শিক্ষিত ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে। আমরা দেশের সব নারীকে সম্মান ও নিরাপত্তা দেব।”
ডা. শফিকুর রহমান সমানাধিকার ও ন্যায়-ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদ, একনায়কতন্ত্র ও দুর্নীতির রাজনীতি আমরা প্রতিহত করতে চাই। এই দেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবাই সমান অধিকার পাবে।”
তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “যারা দেশ ভালোবাসেন, প্রথম ভোট ‘হ্যাঁ’-তে দেবেন। ‘হ্যাঁ’ মানে স্বাধীনতা, ‘না’ মানে পরাধীনতা। একজন সাধারণ রিকশাচালকের সন্তানও একদিন প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে—এই সংস্কৃতি আমরা গড়ে তুলব।”
শফিকুর রহমান শহীদ আবরার ফাহাদের কথা স্মরণ করেন এবং বলেন, “ফেনীর মানুষের কাছে তার রুহ্ চিরন্তন। যারা দেশের ন্যায্যতার জন্য দাঁড়ায়, তাদের প্রতি আধিপত্যবাদী শক্তি কখনো টিকতে পারবে না।”
তিনি ফেনীতে লালপুল ওভারপাস, মেডিকেল কলেজ এবং স্টেডিয়ামের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, তারা একত্রিতভাবে দেশকে আধিপত্য, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করবেন।
জনসভায় ১১ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন, এবং ডা. শফিকুর রহমান আগামী কয়েক দিনে নোয়াখালী, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আরও জনসভায় বক্তব্য দেবেন।