১১ দলীয় জোট রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দেশ থেকে দুর্নীতির অধ্যায় চিরতরে বন্ধ হবে—এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের জোটপ্রার্থী ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। তিনি বলেন, এই জোটের বিজয়ের মধ্য দিয়ে শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদী শাসনের স্থায়ী অবসান ঘটবে এবং বাংলাদেশ নতুন করে গণতান্ত্রিক ধারায় যাত্রা শুরু করবে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. তাহের বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের শাসনব্যবস্থায় মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসেনি। সরকার পরিবর্তন হয়েছে বারবার, কিন্তু দুর্নীতির ধরন ও মাত্রা বদলায়নি। “যে সরকারই এসেছে, তারা দুর্নীতিকে লালন করেছে। কোনো কোনো সময়ে বাংলাদেশকে বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নও হতে হয়েছে,”—বলেন তিনি। তবে এবারের নির্বাচন দেশকে সেই দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ এনে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

১১ দলীয় জোট সম্পর্কে তিনি বলেন, এই জোটে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই আন্দোলনের সাহসী অংশগ্রহণকারী এবং ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলগুলো একত্রিত হয়েছে। সারা দেশে জোটের পক্ষে গণসমর্থনের যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। “মানুষ এবার ভালো মানুষ ও সৎ নেতৃত্বকেই ভোট দেবে”—আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ডা. তাহের আরও বলেন, এবারের নির্বাচন অতীতের ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ কিংবা ২০২৪ সালের মতো নয়। এটি শুধু ক্ষমতার পালাবদলের নির্বাচন নয়, বরং একটি গুণগত ও কাঠামোগত পরিবর্তনের নির্বাচন। জনগণ যদি ১১ দলীয় জোটকে দায়িত্ব দেয়, তাহলে একটি দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

শুভপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ড. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বাশারসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।