গাজীপুর মহানগরীতে প্রকাশ্য দিবালোকে এক নারী ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রদলের সাবেক এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী ব্যবসায়ী স্থানীয়ভাবে পরিচিত ও স্বাবলম্বী ছিলেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
নিহত ব্যবসায়ীর নাম রানু বেগম (৪০)। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানার মাইজবাগ গ্রামের বাসিন্দা মো. হিরোনের স্ত্রী। জীবিকার তাগিদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর মহানগরের পশ্চিম কলমেশ্বর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। একই এলাকার দুলাল মার্কেটে তিনি ‘রানী ফ্যাশন গ্যালারি’ নামে একটি কাপড়ের দোকান পরিচালনা করতেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আশিক ইসলাম ওরফে স্বপন (২৭) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার কলমেশ্বর এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে এবং মহানগর ছাত্রদলের গাছা থানার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পূর্ববিরোধের জেরে প্রকাশ্য স্থানে রানু বেগমের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাটি ছিল অত্যন্ত নৃশংস এবং তা জনসমক্ষে সংঘটিত হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় রানু বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পেছনে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্য সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রকাশ্যে এমন অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ঘটনায় দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।