রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে পড়ে মো. রেজাউল শিকদার (৩৫) নামে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও নিখোঁজ যুবকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ রেজাউল শিকদার গোয়ালন্দ উপজেলার বাহিরচর শাহাদাৎ মেম্বার পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে। পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনার পর থেকে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেরিতে ওঠার সময় রেজাউল শিকদারের সঙ্গে অপর এক যাত্রীর কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পন্টুনের ওপর দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এরই মধ্যে হঠাৎ রেজাউল শিকদার নদীতে পড়ে যান। পরে অপর যাত্রীও নদীতে ঝাঁপ দেন। আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে ওই যাত্রীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও রেজাউল শিকদার সাঁতরে তীরে ওঠার চেষ্টা করার সময় নদীর স্রোতে তলিয়ে যান।

ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করতে মানিকগঞ্জ থেকে ডুবুরি দলকে ডাকা হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ডুবুরি দল অভিযান শুরু করে। রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা চালানো হলেও নিখোঁজ যুবকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজের বড় ভাই মো. হারুন শিকদার অভিযোগ করে বলেন, জমি সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তার ভাইকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তিনি জানান, ভাইকে উদ্ধারের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের লিডার মো. আব্দুল বাছেদ বলেন, নদীর প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজে বেগ পেতে হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।