ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুতে পুরো জেলাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক। রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়াও সাধারণ মানুষের মাঝে তার প্রয়াণ ঘিরে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এই প্রবীণ নেতার মৃত্যু অনেকের কাছেই অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে শেষবারের মতো তাকে দেখতে শনিবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া গ্রামের বাড়িতে যান ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন। তিনি সেখানে গিয়ে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং মরহুমের সহধর্মিণী অঞ্জলি রানী সেনকে সান্ত্বনা জানান। কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে তিনি পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

জামায়াতের প্রার্থীকে সামনে পেয়ে আবেগ সামলাতে পারেননি অঞ্জলি রানী সেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, “তুমি এসেছ বাবা, আমার আর কেউ নাই।” কথা বলতে বলতে তিনি স্বামীর অসমাপ্ত ইচ্ছা ও চলমান নির্বাচন নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তার কণ্ঠে ছিল গভীর শূন্যতা আর অসহায়ত্বের সুর। সে সময় দেলাওয়ার হোসেন তাকে পানি খাইয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

এ বিষয়ে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুতে ঠাকুরগাঁও একজন অভিজ্ঞ ও প্রবীণ রাজনীতিককে হারিয়েছে। তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোকে তিনি নিজের নৈতিক দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন এবং মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।

রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। তার রাজনৈতিক জীবনে ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পানি ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকার কথা অনেকেই স্মরণ করছেন।

এর আগে শনিবার সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কারা সূত্রে জানা যায়, ওয়ার্ডের ওয়াশরুমে পড়ে গিয়ে অসুস্থ হলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, রমেশ চন্দ্র সেন ১৯৪০ সালের ৩০ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালে সংসদ বিলুপ্তির মাধ্যমে তার সর্বশেষ সংসদ সদস্য পদ শেষ হয়।