সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বৃহস্পতিবার রাতে এক প্রচার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক নেতা শিশির মনির। শুক্রবার সকালে তিনি জানান, এই ধরনের ঘটনা শুধু যানবাহন ভাঙা নয়, এটি নতুন ও সৃজনশীল রাজনৈতিক চিন্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টার অংশ।
শিশির মনির বলেন, “রাজনীতিতে যদি কারও মধ্যে সৃজনশীল উদ্যোগ থাকে, সেটি জনগণের সামনে আনা প্রয়োজন। কিন্তু সম্প্রতি দেশে এক ধরনের অসহিষ্ণু আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দিরাইয়ে কে এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খুঁজে বের করা জরুরি। কোনো বিষয় অস্বীকার করে পরিস্থিতি সামলানো যায় না। ঘটনার স্বীকারোক্তিই প্রথম ধাপ।”
তিনি আরও বলেন, “এই গাড়ি ভাঙা একটি চলমান সৃজনশীল প্রচারণার অংশ ছিল। মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। তাই এটি যে কোনো দল বা ব্যক্তিই করুক, গ্রহণযোগ্য নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবশ্যই দোষীদের শনাক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোও স্পষ্ট অবস্থান জানাবে।”
রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরে শিশির মনির বলেন, “আজকের জনগণ সব বিষয়ে সচেতন। রাজনীতিকে গালাগালি, উসকানিমূলক বক্তব্য বা শূন্য বিতর্কের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া যায় না। নতুনত্ব ও সৃজনশীলতা প্রকাশ করতে হবে। পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিনির্ভর বিতর্কের মাধ্যমে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, কোথাও হুমকি, কোথাও ধর্মভিত্তিক বিভাজন ও উসকানিমূলক বক্তব্য সমাজকে পিছিয়ে দেয়। “নতুন প্রজন্ম সহজ, কার্যকর সমাধান এবং দক্ষ নেতৃত্ব চায়। পুরনো খিস্তিখেউড় রাজনীতি আর চলবে না। যদি জটিল সমস্যার সমাধান দেখাতে না পারেন, জনগণ আপনাকে গ্রহণ করবে না।”
শেষে শিশির মনির সকলের প্রতি আহ্বান জানান, দোষীদের শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে। তিনি বলেন, “এভাবেই বোঝা যাবে, সত্যিকারের ইতিবাচক ও দায়বদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের মানসিকতা তৈরি হয়েছে। অন্যথায় পুরনো ধ্যান-ধারণাই রয়ে যাবে।”