জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, দলের ক্ষমতায় আসার পর কোনো সংসদ সদস্য (এমপি) বিনা ট্যাক্সের গাড়ি নেবেন না। প্রয়োজনে স্বয়ং রিকশায় চলাফেরাও করবে। এছাড়া এমপিদের জন্য স্বল্পমূল্যে দেওয়া প্লটও কেউ গ্রহণ করবেন না।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) হবিগঞ্জে ১১-দলীয় নির্বাচনী জোটের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তিনি বলেন, “জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি থেকে মুক্ত করা হবে। কেউ চাঁদা নিতে চাইলে তার হাত ভেঙে দেওয়া হবে। দেশের মায়েদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার আর কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করা হবে না।”

ডা. শফিকুর আরও বলেন, দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও তাদের পরিবারের আয়-ব্যয়ের খতিয়ান প্রকাশ হবে এবং জনগণের সম্পদে হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি মন্তব্য করেন, “দেশে এখন সন্ত্রাস ও দুর্নীতি যেন ছত্রাকের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এর দায় মূলত যারা পূর্বে দেশের ক্ষমতায় ছিল, তাদেরই।”

তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এটি “আজাদি বনাম গোলামি” লড়াই। এই নির্বাচন হবে পচা রাজনীতির চরিত্র বদলের সুযোগ। ক্ষমতায় এলে জামায়াত এমন একটি রাষ্ট্র গড়বে যেখানে মেধার ভিত্তিতে একজন সাধারণ শ্রমিকের সন্তানও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারবে।

ডা. শফিকুর স্মরণ করান, জুলাই ও আগস্টের আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদ, আবরার ফাহাদ ও শহীদ ওসমান হাদীর ত্যাগ দেশকে নতুন পথে চালিত করেছে। “তাদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করতে এবং নতুন সূর্যোদয়ের বাংলাদেশ গড়তে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ,” যোগ করেন জামায়াত আমির।

তিনি বলেন, নির্বাচনে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তা পালন করা হয় না। জামায়াত এ বার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করবে এবং দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে স্বচ্ছতা আনবে।

এভাবেই শফিকুর রহমান দলের নীতি ও নির্বাচনী পরিকল্পনা তুলে ধরেন, যেখানে পারিবারিক বা ব্যক্তিগত সুবিধা নয়, দেশের সাধারণ মানুষ ও ন্যায়ের ভিত্তিতে শাসন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।