দীর্ঘ দেড় দশকের দমন–পীড়ন, মামলা ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজপথ ছেড়ে যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচন এলেই আবির্ভূত হওয়া তথাকথিত মৌসুমি রাজনীতিতে জামায়াত বিশ্বাস করে না; বরং প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও জনগণের পাশে থাকার রাজনীতিই তাদের আদর্শ।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর চালানো হয়েছে নজিরবিহীন নিপীড়ন। জেল-জুলুম, অফিস বন্ধ, ঘরছাড়া হওয়া—সবকিছু সয়েও দলটি বাংলাদেশে থেকেই রাজনীতি করেছে। “এই মাটি আঁকড়ে ধরেই আমরা থেকেছি,”—বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, সামনে কী দিন আসবে তা আল্লাহই ভালো জানেন। তবে সুখ-দুঃখ সব পরিস্থিতিতেই জনগণের সঙ্গে থাকার অঙ্গীকার করেন তিনি। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেন, দমন-পীড়নে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও জামায়াত কোনো অবস্থাতেই চাঁদাবাজি বা অবৈধ পথে যাবে না। অতীতে যারা নির্যাতন করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও প্রতিশোধমূলক মামলা করা হবে না বলেও জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত সংগঠন জামায়াতে ইসলামী। শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুদণ্ড, দলীয় নিবন্ধন বাতিল, প্রতীক কেড়ে নেওয়া, অফিস সিলগালা এবং শেষ পর্যন্ত নিষিদ্ধ—সবকিছুই একমাত্র জামায়াতের ক্ষেত্রেই ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে তিনি বলেন, কেবল জামায়াত নয়—বিগত বছরগুলোতে দেশের সাধারণ মানুষই ছিল সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। আলেম-ওলামা, ছাত্রসমাজ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ—সবাই কোনো না কোনোভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জনসভায় জামায়াত আমির টাঙ্গাইল জেলার আটটি সংসদীয় আসনের দলীয় ও শরিক দলের প্রার্থীদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবিব মাসুদ। এতে জামায়াত ও জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।