রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় ভোটের পছন্দ প্রকাশ করাকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তির ওপর হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় যুবদল নেতা মজনু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তকে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে পীরগাছা উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের জগজীবন এলাকায়। ভুক্তভোগী ইদ্রিস আলীর অভিযোগ, তিনি এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার কথা জানানোয় বিএনপির কয়েকজন কর্মী-সমর্থক তার ওপর হামলা চালান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন মজনু মিয়া, মুকুল মিয়া, ফিরোজ মিয়া ও মজিবর রহমান ইদ্রিস আলীর বাড়ির উঠানে গিয়ে নির্বাচনী আলোচনা শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ইদ্রিস আলীর কাছে জানতে চান, তিনি কাকে ভোট দেবেন। তখন ইদ্রিস আলী জানান, তিনি শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে ভোট দিতে চান। এতে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ইদ্রিস আলীকে হুমকি দিয়ে বলেন, এলাকায় থাকতে হলে বিএনপির ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। অন্যথায় তাকে ‘দেখে নেওয়া হবে’ বলেও ভয় দেখানো হয়। এরপর তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ইদ্রিস আলীকে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে পীরগাছা থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অন্নদানগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মজনু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
ইদ্রিস আলী বলেন, নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের কথা বলার কারণেই তাকে মারধর করা হয়েছে। এখনো তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে এ ধরনের সহিংসতা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম খন্দকার মহিব্বুল ইসলাম জানান, মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।