সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর ও সদর আংশিক) আসনে গণঅধিকার পরিষদের সংসদ সদস্য প্রার্থী মোছা. মল্লিকা খাতুন নির্বাচনী মাঠে এগিয়ে থাকার দাবি করলেও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী বলেই তার ওপর হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে থাকা সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি বাড়তি সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কাজীপুর উপজেলার সীমান্ত বাজার এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মল্লিকা খাতুন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকেই বিভিন্নভাবে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তার ব্যানার ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, মাঠে কাজ করতে যাওয়া টিমের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মল্লিকা খাতুন বলেন, তিনি কোনো বড় রাজনৈতিক শক্তির ওপর নির্ভর করে নয়, সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়েই নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। এ কারণে কারও সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিরোধ নেই বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষায়, “মানুষ আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছে, তার জন্য প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত। আমি ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ট্রাক প্রতীক নিয়ে মাঠে থাকব—এটাই আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।”
তিনি আরও বলেন, গণঅধিকার পরিষদ কোনো দলের সঙ্গে গোপন সমঝোতা বা লিয়াজোঁ করছে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। ট্রাক প্রতীক নিয়েই শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
নিজের প্রচারণা প্রসঙ্গে মল্লিকা খাতুন জানান, তিনি ঘরে ঘরে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার চেষ্টা করেছেন। সাধারণ পরিবারের সন্তান হিসেবে সাধারণ মানুষের ভাষা ও কষ্ট তিনি বোঝেন বলেই ভোটাররা তাকে আপন করে নিচ্ছেন বলে মনে করেন তিনি। এতে তিনি শতভাগ আশাবাদী যে ভোটাররা শেষ পর্যন্ত যোগ্য প্রার্থীই বেছে নেবেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতা আরও বাড়বে। সংসদে যাওয়ার আগে স্থানীয় জনগণকে নিয়ে বসে তাদের সমস্যা শুনবেন এবং সমাধানে কাজ করবেন। নদী শাসন, নাব্যতা রক্ষা করে সারা বছর নদী পারাপারের ব্যবস্থা, কৃষিখাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই তার প্রধান অগ্রাধিকার হবে বলে জানান তিনি।