বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে তিনি ও তার পরিবার টানা সাড়ে ১৬ বছর চরম আতঙ্ক, নির্যাতন ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে জীবন কাটিয়েছেন। সেই সময়কে তিনি “মানবেতর জীবন” হিসেবে বর্ণনা করেন।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণ গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় আবেগঘন বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে আমাদের ঘরে কখনো শান্তি ছিল না। পুলিশ যেকোনো সময় বসতঘরে ঢুকে তল্লাশি চালাত, যাকে পেত তাকেই ধরে নিয়ে যেত।” অতীতের সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, এখনো সেই স্মৃতি মনে পড়লে শিউরে উঠতে হয়।

তিনি জানান, তার ছোট ভাইকে একবার গ্রেপ্তার করে টানা চার মাস গুম করে রাখা হয়েছিল। পরিবার তখন ধরে নিয়েছিল, হয়তো তাকে আর জীবিত ফিরে পাওয়া যাবে না। চার মাস পর ফিরে এলেও সেই মানসিক যন্ত্রণা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। শুধু তাই নয়, তার পরিবারের প্রায় প্রতিটি সদস্যের বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। নিজের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক মামলা মাথায় নিয়ে দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে বলেও তিনি জানান।

বুলবুল আরও বলেন, “সাড়ে ১৬ বছর আমরা নিজের বাড়িতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারিনি।” সবচেয়ে বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাবার মৃত্যুতে তাকে জানাজায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। ভাইয়ের জানাজায় উপস্থিত থাকতে পারলেও দাফন শুরুর আগেই একাধিক পুলিশ গাড়ি বাড়িতে এসে হাজির হয়, ফলে সেখান থেকেও সরে যেতে বাধ্য হন।

এত নির্যাতন ও দমন-পীড়নের পরও তিনি এলাকার মানুষের পাশে থেকেছেন দাবি করে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম থেকে তিনি কখনো সরে যাননি এবং ভবিষ্যতেও যাবেন না।

সমাবেশে আরও জানানো হয়, ওই জনসভায় বিএনপির ২৭ জন কর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।

সভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের জামায়াত নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।