বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ভবিষ্যতের রাজনীতি হবে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি এবং দেশ গঠনের রাজনীতি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্পত্তি নয়—এই দেশ কোটি মানুষের। জনগণের স্বার্থকে কেন্দ্র করেই আগামীর রাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হবে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা–টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কের দরুন–চরজানা বাইপাস এলাকার খোলা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়া হবে। কৃষকদের হাতে কৃষি কার্ড তুলে দেওয়া হবে এবং বর্তমানে প্রচলিত ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে। তিনি বলেন, “১৩ ফেব্রুয়ারি যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তাহলে প্রথম সিদ্ধান্তগুলোর একটি হবে কৃষকদের এই ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত করা।”

তিনি আরও বলেন, দেশের মা-বোনদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে, যাতে তারা রাষ্ট্রীয় সহায়তা সরাসরি পান। তার ভাষায়, “আমরা চাই প্রতিটি পরিবার যেন সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে।”

গত দেড় দশকের চিত্র তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এই সময়ে দেশের গ্রামগঞ্জের মানুষ উন্নয়ন ও ন্যায্য দাবি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বড় বড় শহরে কিছু মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও, সেগুলোর আড়ালে হয়েছে ব্যাপক দুর্নীতি। তিনি বলেন, “মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি, খুন-গুম আর মিথ্যা মামলাই ছিল বাস্তবতা।”

নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কেউ আবার ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে। তিনি দাবি করেন, বিএনপিই একমাত্র দল যার অভিজ্ঞতা আছে দেশকে সঠিক পথে পরিচালনার।

তারেক রহমান বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি জনগণই ঠিক করবে বাংলাদেশ কোন পথে চলবে। আল্লাহ চাইলে ভোটের পরদিন থেকেই দেশ গড়ার কাজ শুরু হবে।”

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিলের সভাপতিত্বে জনসভায় জেলার আটটি সংসদীয় আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বক্তব্য দেন। সভা পরিচালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

জনসভা শেষে বিএনপি চেয়ারম্যান টাঙ্গাইলের আট আসনের প্রার্থীদের জনসমক্ষে পরিচয় করিয়ে দিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।