নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আসন্ন গণভোটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনগণকে তথ্য জানাতে পারবেন, তবে ভোটের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো অবস্থান নিতে পারবেন না। গণভোটের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা যাবে, কিন্তু ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’-এর পক্ষে প্রচারণা বা মত প্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি জানান, গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২১ নম্বর ধারায় বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। সাধারণ নির্বাচনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যে আচরণবিধি মানতে হয়, গণভোটের ক্ষেত্রেও তার কোনো ব্যতিক্রম নেই। ফলে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো পক্ষের পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। তবে গণভোট কী, কেন হচ্ছে এবং ভোট দেওয়ার নিয়ম-কানুন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করার সুযোগ থাকবে।
পটুয়াখালী জেলার নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ভোটের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক সমন্বয় দেখে তিনি আশাবাদী যে জেলাটিতে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ভোটার উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য কোনো নির্দিষ্ট ভোটের হার নয়। কমিশনের প্রত্যাশা, সব ভোটার যেন নিরাপদ ও নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। সে জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
দেশব্যাপী নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে পরিবেশ সহনীয় রয়েছে। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও সেগুলোকে বড় আকারে উপস্থাপন না করে সবাইকে সংযমী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। নির্বাচনের সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও তা যেন উত্তেজনায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও সমর্থকদের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।
শেষে নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা, এবং সে লক্ষ্যেই কমিশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।