ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতার ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনসংলগ্ন আজিমনগর ইউনিয়নের তারাইল এলাকায় এ হামলা চালানো হয়। এতে নুর আলম মুন্সি (৪০) নামে জামায়াতের এক নেতা গুরুতর আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হেলমেট পরা কয়েকজন ব্যক্তি একাধিক মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে এসে অতর্কিতভাবে নুর আলমের ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। আকস্মিক এ হামলায় আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

আহত নুর আলম মুন্সি আজিমনগর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং ইউনিয়ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বাড়ি উপজেলার ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামে। তিনি জামায়াতে ইসলামীর ভাঙ্গা উপজেলা নেতা রোকন ইলিয়াস মুন্সির ছেলে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুর আলম জানান, তিনি ফরিদপুর-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসেনের নির্বাচনী হ্যান্ডবিল সংগ্রহ করতে মালিগ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ফোন কল পেলে মোটরসাইকেল থামিয়ে কথা বলার সময় হামলাকারীরা এসে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপ দেয়। হামলাকারীরা তাকে নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়াতে হুমকিও দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে সবাই হেলমেট পরা থাকায় কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের জানান, নুর আলমের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর ভাঙ্গা পৌর আমির মো. এনায়েত হোসেন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হামলা। তারা এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম জানান, এখনো পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।