চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হারুনুর রশিদ বলেছেন, দেশের সাধারণ মানুষ এখনো পিআর পদ্ধতি যেমন বোঝে না, ঠিক তেমনি গণভোট সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা রাখে না। তিনি মনে করেন, জটিল ও অস্পষ্ট প্রশ্ন দিয়ে গণভোট আয়োজন করা হলে ভোটাররা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়বেন, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হারুনুর রশিদ বলেন, গত শুক্রবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিবের খুতবা ছিল সময়োপযোগী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সেখানে ভোটকে একটি বড় আমানত হিসেবে উল্লেখ করে ভোটারদের উদ্দেশে বলেন— প্রতীক দেখে নয়, প্রার্থীর চরিত্র, সততা ও এলাকার জন্য কাজ করার সক্ষমতা বিবেচনা করেই ভোট দিতে হবে। হারুনুর রশিদের ভাষায়, “যাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা আছে, যারা লাঠি বা হুমকি দিয়ে রাজনীতি করতে চায়— এমন প্রার্থীদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের সামনে দুটি ব্যালট থাকবে— একটি সরকার গঠনের জন্য প্রার্থী নির্বাচনে, অন্যটি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ সিদ্ধান্তের জন্য। কিন্তু প্রচারণার সময় তিনি লক্ষ্য করেছেন, সাধারণ মানুষ এই ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের অর্থই পুরোপুরি বুঝতে পারছেন না। অনেক ভোটার তাকে প্রশ্ন করেছেন— কোনটিতে ভোট দেওয়া উচিত, হ্যাঁ না না?
হারুনুর রশিদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি বিশেষ বিদেশি শক্তির প্রভাবের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, এক বছর ধরে সংস্কারের কথা বলা হলেও গণভোটের প্রশ্নগুলো এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ভোটারের প্রকৃত মতামত প্রকাশের সুযোগ সীমিত। কারণ এখানে একাধিক বিষয় একসঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে— ফলে কেউ চারটি বিষয়ে একমত হলেও দুইটিতে না চাইলে আলাদা করে মত দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না।
তিনি বলেন, “আপনাকে বাধ্য করা হচ্ছে সবকিছুতে হ্যাঁ অথবা সবকিছুতে না বলতে। এটি গণতন্ত্রের মৌলিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।” এ কারণেই বায়তুল মোকাররমের খতিব বারবার জেনে-বুঝে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জনসভায় বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া, জেলা ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।