নাটোরের সিংড়া উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুই এনসিপি কর্মীকে মারধর করে আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এনসিপির দাবি, বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা এই হামলায় জড়িত। তবে বিএনপি অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সিংড়া উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নের মৌগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, ওই রাতে মৌগ্রাম এলাকায় এনসিপির নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে একটি ভুড়িভোজের আয়োজন করা হয়। আয়োজনে নেতৃত্ব দেন উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাবেক সভাপতি ও সুকাশ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আব্দুল কুদ্দুস আকন্দ এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল। এ সময় এনসিপির কয়েকজন কর্মী ও সমর্থক কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন।
এনসিপি নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা নির্বাচনী অফিসের সামনে ভুড়িভোজ না করে অন্য কোনো স্থানে আয়োজন করার অনুরোধ জানান। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিএনপি কর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে এনসিপির কার্যালয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।
এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়, হামলাকারীরা কার্যালয়ের চেয়ার, টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। একই সঙ্গে এনসিপি কর্মী আহাদ আলী ও সুলতান সরকারকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং আহত দুই কর্মীকে উদ্ধার করে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
তবে বিএনপির স্থানীয় নেতা আব্দুল কুদ্দুস আকন্দ এসব অভিযোগ নাকচ করে বলেন, এনসিপির কর্মীরাই নিজেদের অফিসে ভাঙচুর করেছে। বিএনপি বা তার কোনো কর্মী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অ স ম আব্দুন নূর বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।