নোয়াখালীর জিলা স্কুল মাঠে শুক্রবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জেলার ছয়টি আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেন। জনসাধারণের মধ্যে ভোটারদের উৎসাহ বাড়াতে তিনি অভিনব কৌশল অবলম্বন করেন।

জনসভার শুরুতে নোয়াখালী-১, নোয়াখালী-৩, নোয়াখালী-৪ ও নোয়াখালী-৫ আসনের চার প্রার্থীর হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেওয়া হয়। তবে নোয়াখালী-২ ও নোয়াখালী-৬ আসনের জন্য মঞ্চে কোনো প্রতীক উপস্থিত ছিল না। প্রতীক না পেয়ে ডা. শফিকুর রহমান নিজের হাত শাপলা কলির আকারে উঁচু করে ধরে ওই দুই প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমার হাত ধরো, এটাই শাপলা কলি।” এই অভিনব দৃষ্টান্ত জনসভায় উপস্থিত সকলের নজর কাড়ে।

এরপর দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন। জামায়াত আমির কর্মীদের অনুরোধ করেন, নিজের বাড়িতে মা-বোনদের কাছে প্রতীকের তাৎপর্য পৌঁছে দিতে যেন সক্রিয় থাকেন। তিনি বলেন, “১১ দলের প্রার্থীদের মধ্যে যাদের যে প্রতীক দেওয়া হয়েছে, সেটিই ১১ দলের প্রতীক। কোনো চাওয়া-পাওয়া বা মান-অভিমান থাকলে আজ আমি দুই হাত তুলে তা আপনাদের কাছে দিতে চাই। আমরা মিলেমিশে লড়াই করে ভোট নিরাপদ ও সুষ্ঠু পরিবেশে প্রয়োগ করব।”

জনসভার শুরু হয় সকাল ৯টায় জেলা জামায়াত ও নোয়াখালী-৪ আসনের প্রার্থী ইসহাক খন্দকার’র সভাপতিত্বে। দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান। এতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সহসভাপতি রাশেদ খান প্রধান, ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মু. মুতাসিম বিল্লাহ শাহেদী এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমানের অভিনব উদ্যোগ ও সরল ব্যাখ্যা জনসভাকে প্রাণবন্ত করে তোলে। ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন, প্রতীক পরিচয় ও স্লোগান প্রচার ১১ দলীয় জোটের সমর্থন শক্তিশালী করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।