জাতীয় সংসদকে জনগণের প্রতিনিধিত্বের কেন্দ্র নয়, বরং একটি ব্যবসায়িক ক্লাবে পরিণত করা হয়েছে—এমন তীব্র সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন। তিনি বলেন, ভোট ও সংসদ—দুটোই এখন ক্ষমতা ও অর্থের লেনদেনের অংশ হয়ে উঠেছে, যা গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাবে বরিশাল-৩ আসনের যুক্তফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ও বাসদের ‘মই’ প্রতীকের প্রার্থী আজমুল হাসান জিহাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সাধারণ ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোটকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না এবং ধর্মীয় আবেগ বা ব্যক্তিগত লোভের কাছে ভোটাধিকারকে সমর্পণ করা উচিত নয়।

কমরেড রতন বলেন, নির্বাচনের সময় এলেই সমাজে নৈতিক অবক্ষয় প্রকট হয়ে ওঠে। যারা সচেতন ভোটার হওয়ার কথা, তারা অনেক সময় ভোট বিক্রেতায় পরিণত হয়। আর যারা ভোট কিনে সংসদে যায়, তারা সংসদকে জনগণের কল্যাণের জায়গা না বানিয়ে নিজেদের স্বার্থরক্ষার ক্লাবে রূপ দেয়। এই বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য জনগণকে সচেতন ও সংগঠিত হতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র টেকসই হতে পারে না। সাংবাদিকরা যেন ভয়ভীতি ও চাপমুক্তভাবে সত্য প্রকাশ করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে চাঁদাবাজিমুক্ত পরিবেশে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে বলেও তিনি জোর দেন।

৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে রতন বলেন, তখন শ্রমজীবী ও শিক্ষিত তরুণদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনই স্বৈরাচারবিরোধী গণজাগরণকে শক্তিশালী করেছিল। একইভাবে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে তরুণদের বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ গড়ে উঠেছে, তা নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই দেশ বারবার তরুণদের স্বপ্নভঙ্গের জায়গায় পরিণত হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে অনুষ্ঠিত ১২টি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে দলীয় সরকারের অধীনে হওয়া নির্বাচনগুলো বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তুলনামূলকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোই জনগণের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য ছিল। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জনগণের মধ্য থেকেই উঠে এসেছে। নির্বাচন গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলেও, গণতন্ত্র চর্চা না থাকলে সেই অঙ্গ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে—এটাই বাংলাদেশের বর্তমান সংকট বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল-৩ আসনের প্রার্থী আজমুল হাসান জিহাদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির বরিশাল জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সেলিমসহ যুক্তফ্রন্ট ও বাম জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।