আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মোট ৬০৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৭৯টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে ভোটগ্রহণকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে জেলার সব ভোটকেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা নির্বাচন অফিস।

জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনে মোট ৬০৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্রে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ৩ হাজার ৪১০টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের পাশাপাশি ৪৩০টি কেন্দ্রকে সাধারণ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে।

আসনভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, সাতক্ষীরা-২ (সদর ও দেবহাটা) আসনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—৬০টি। সাতক্ষীরা-১ আসনে ৫০টি, সাতক্ষীরা-৩ আসনে ৪০টি এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনে ২৯টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চারটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ১৭ হাজার ৮৪৮ জন, নারী ভোটার ৯ লাখ ১৪ হাজার ৯১৪ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১৩ জন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় সব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যেই বাকি কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল বলেন, কেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে শুধু নিরাপত্তা নয়, ভৌগোলিক অবস্থান ও অবকাঠামোগত বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

এদিকে সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় নির্বাচনের সময় সাতক্ষীরায় বিজিবির নিরাপত্তা তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে। সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান জানান, নির্বাচনকালীন সময়ে উপজেলাভেদে সর্বোচ্চ পাঁচ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি ১৫টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের সব নির্দেশনা মেনে বিজিবি রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কাজ করবে।