জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তিনি কোনো দলীয় বিজয়ের কথা বলছেন না, বরং পুরো দেশের মানুষের জয় নিশ্চিত করতে চান। তার ভাষায়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় মানেই বাংলাদেশের সার্বিক বিজয়। জনগণের অধিকার ও সম্মান অক্ষুণ্ন রাখাই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।

শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার কটিয়াদি সরকারি কলেজ মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

নির্বাচন নিয়ে কঠোর অবস্থান
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত জনগণের রায়কে সম্মান জানাতে হবে। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে যিনি নির্বাচিত হবেন, তাকেই সবাই মেনে নেবে—এটাই গণতন্ত্রের নিয়ম। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, অনিয়ম বা গোপন পথে ক্ষমতা দখলের কোনো প্রচেষ্টা আর বরদাস্ত করা হবে না।

তার বক্তব্যে উঠে আসে ভবিষ্যৎ রাজনীতির রূপরেখাও। তিনি বলেন, দেশের অগ্রগতির পথে যত ধরনের অবৈধ ও অসৎ পথ আছে, সেগুলো বন্ধ করা হবে। দেশের মানুষকে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়াই এখন সময়ের দাবি।

দুর্নীতি ও অর্থপাচার প্রসঙ্গে মন্তব্য
জনসভায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, অতীতে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে পাচার হয়েছে। তার দাবি, যারা জনগণের অর্থ লুট করে বিদেশে পালিয়েছে, তাদের কাছ থেকে সেই টাকা উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আনা হবে। উদ্ধার হওয়া অর্থ দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে ব্যয় করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

নেতৃত্ব ও সমাবেশের চিত্র
কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যক্ষ রমজান আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য মেজর আখতারুজ্জামান রঞ্জন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস সাঈদ বিন হাবিবসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সমাবেশ শেষে ডা. শফিকুর রহমান কিশোরগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন এবং উপস্থিত জনগণের কাছে ভোট ও সমর্থন চান।