বরিশাল সদর আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ মুফতি ফয়জুল করীম বলেছেন, জনগণ যদি একবার তাকে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ দেয়, তবে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির রাজনীতির চিরতরে সমাধি রচনা করা হবে। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে দুর্নীতিকে উৎখাত করাই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বরিশাল শহীদ মিনারে আয়োজিত হাতপাখা প্রতীকের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফয়জুল করীম বলেন, তিনি ভোটারদের কাছে ক্ষমতা নয়, বরং একটি পরীক্ষার সুযোগ চাইছেন। হাতজোড় করে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “একবার আমাকে পরীক্ষা করুন। যদি আমি ব্যর্থ হই, তাহলে দ্বিতীয়বার আর ভোট চাইতে আসব না।” তিনি দাবি করেন, অতীতে বহু জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত করা হলেও বরিশালবাসীর মৌলিক সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এবার জনগণ যদি পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়ায়, তবে বাস্তব ফলাফল দেখতে পাবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে তার এলাকায় মিথ্যা মামলা, হয়রানি ও চাঁদাবাজির সংস্কৃতি বন্ধ করা হবে। বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং নারী সমাজের জন্য সম্মানজনক কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তার ভাষায়, “সমাজের সব সংকটের মূলেই রয়েছে দুর্নীতি। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়াই হবে আমার প্রথম কাজ।”
ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা অভিযোগ করেন, দেশে বারবার ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। যারা ক্ষমতায় গেছে, তাদের অনেকেই দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পদের পাহাড় গড়েছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে বলেও তিনি মত দেন।
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে ফয়জুল করীম বলেন, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে তিনি নিজে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। আন্দোলনের পর দেশে মিথ্যা মামলা ও মামলা বাণিজ্যের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, সেটিকেও তিনি কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন।
জনসভা শেষে হাতপাখা প্রতীকের সমর্থনে বরিশাল সদর রোডসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে একটি বড় গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন।