ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দিন দিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা হামলা, ভীতি প্রদর্শন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে সেন্সরশিপ ও নানা ধরনের হুমকির কারণে স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কার্যকর সুরক্ষা, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার না থাকায় সাংবাদিক সমাজে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই বাস্তবতা মোকাবিলা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে শনিবার রাজধানী ঢাকায় একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারি অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান ‘ভয়েস’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন। আলোচনায় বক্তারা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীন ও নিরাপদ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি; অথচ বর্তমানে সেই পরিবেশ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে।
ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ তার বক্তব্যে বলেন, সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের অনেক ক্ষেত্রে সামনের সারিতে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হয়, যা তাদের স্বাভাবিকভাবেই বেশি ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমকর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা ও শারীরিক আক্রমণের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা উদ্বেগজনক। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও সক্রিয়, কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
সভায় ভয়েসের উপ-পরিচালক মুশাররাত মাহেরা বলেন, বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ না হওয়ায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সাংবাদিকদের নিয়ে একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা তাদের নিরাপত্তা, পেশাগত সুরক্ষা ও অধিকার রক্ষায় একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। তিনি আরও জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে নির্যাতনের শিকার সাংবাদিকদের সহায়তার জন্য ‘বাংলাদেশ জার্নালিস্টস সেফটি ফান্ড’ গঠন করা হয়েছে, যেখানে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করা হবে।
আলোচনা সভায় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলামিস্ট সোহরাব হোসেন, অধিকারকর্মী ডালিয়া চাকমা ও সারাবান তহুরা, উন্নয়ন পরামর্শক মনজুর রশীদ, শিক্ষাবিদ আফরোজা সোমা, আজিজুল পারভেজ, মাইনুল হাসান সোহেলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সবাই একমত পোষণ করেন যে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্বাধীন গণমাধ্যম ও গণতন্ত্র—দুটিই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।