সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় নির্বাচনি ব্যয় বহনের অর্থ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনি কেন্দ্র পরিচালনার জন্য বহন করা টাকা বিএনপির কয়েকজন কর্মী জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়েছেন। তবে বিএনপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভোট কেনার উদ্দেশ্যে অর্থ বহন করছিলেন এবং সেই টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর উপজেলার চৌবাড়ি এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
জামায়াতে ইসলামীর কামারখন্দ উপজেলা নায়েবে আমির অধ্যক্ষ আতাউর রহমান অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনি কেন্দ্রের খরচের জন্য সংগৃহীত প্রায় দুই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় বিএনপির স্থানীয় নেতা হাবিব ও আব্দুল মান্নান মধুর নেতৃত্বে একদল কর্মী তাদের পথরোধ করে। এ সময় টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জামায়াতের কয়েকজন কর্মীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি আরও জানান, ঘটনার ভিডিও প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যে দেখা যায়, ভোট কেনার অভিযোগ তুলে একটি সিএনজি থেকে কয়েকজনকে নামিয়ে তাদের কাছ থেকে ৭১ হাজার টাকা ও একটি ব্যাগ উদ্ধার করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। ভিডিওতে বিএনপির কর্মীদের ভোট কেনার উদ্দেশ্যে টাকা বহনের অভিযোগ করতে শোনা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
রায়দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি আব্দুল মান্নান মধু দাবি করেন, জামায়াতের নেতারা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে অর্থের মাধ্যমে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের আটক করেন এবং ৭১ হাজার টাকা উদ্ধার করেন। পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে ওই টাকা সংশ্লিষ্টদের কাছে ফেরত দেওয়া হয় বলেও তিনি জানান।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হলেও উদ্ধারকৃত টাকার অঙ্ক ও উভয় পক্ষের বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। পোলিং এজেন্টদের ফরমসহ কিছু কাগজপত্র উদ্ধার হওয়ায় বিষয়টি আরও সন্দেহজনক মনে হয়েছে। এ কারণে পুরো ঘটনাটি তদন্তের জন্য জুডিশিয়াল কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে রাতেই উভয় পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।