কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ঘোষিত এই রায়ে আরও একজন আসামিকে দেড় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, আর একজনকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক মো. নজরুল ইসলাম আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা সবাই ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নাপিতখালী এলাকার বাসিন্দা। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— মৃত এজহার মিয়ার ছেলে নুরুল ইসলাম (৮০), আলী হোসেনের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৪৫), সেলিম উল্লাহ (৪৮) এবং নুরুল ইসলামের ছেলে আশরাফুজ্জামান (৪৫)।

রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার আরেক আসামি মনজুরুল ইসলাম (৪৪) অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস পান। একই সঙ্গে ফরিদুল হক ওরফে সোনা মিয়া (৪১)-কে দেড় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে তাকে অতিরিক্ত কারাভোগ করতে হবে বলে আদালত আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার ৫ নম্বর আসামি আব্দুল জলিল এবং ১০ নম্বর আসামি আলী হোসেন বিচার চলাকালে মারা যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে তাদের নাম মামলার রায় থেকে বাদ পড়ে।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১০ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নাপিতখালী বাঁশকাটা এলাকার গোল্ডেন ফার্মের পূর্ব পাশে জমি দখলকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। আসামিরা জাফর আলমের মালিকানাধীন জমি দখলের চেষ্টা চালালে তিনি বাধা দেন। এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জাফর আলমকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে নিহতের ছেলে আব্দুল মজিদ বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি এসটি-৭১০/১২ নম্বরে দীর্ঘদিন বিচারাধীন ছিল। প্রায় এক যুগের বেশি সময় পর আদালতের এই রায়ে নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।