ইনকিলাব মঞ্চের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। যমুনায় শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা জুম্মা জাবের এবং রাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস আম্মারের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মাগরিব নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জোহা চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা শহীদ ওসমান হাদির দ্রুত বিচার এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের দমনমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানান। এ সময় বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। স্লোগানের মধ্যে ছিল— “জুম্মা-জাবের-আম্মার, জুলাইয়ের অহংকার”, “আমার ভাইয়ের ওপর হামলা কেন—ইন্টেরিম জবাব চাই” এবং পুলিশের ভূমিকার সমালোচনামূলক স্লোগান।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাকসুর সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক আবু সাঈদ মোহাম্মদ নুন বলেন, “একটি শুক্রবারেই সন্ত্রাসীরা আমাদের ভাই শহীদ ওসমান হাদিকে হত্যা করেছিল। আজ একই শুক্রবারে, একটি অন্তর্বর্তী সরকার থাকার পরও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে—এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

রাকসুর তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক নাজমুস সাকিব বলেন, “ওসমান হাদি এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছিলেন, যেখানে পরনির্ভরশীলতা থাকবে না। কিন্তু সেই স্বপ্ন ধারণ করায় তাকেই গুলির শিকার হতে হয়েছে। আজ তার বিচার চাইতে গেলে আবার হামলা—এটি রাষ্ট্রের ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ।”

তিনি আরও বলেন, “যাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে, সেই সরকার এখনো শহীদ হাদির বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি। বরং বিচার চাইতে গিয়ে আমাদের ভাইদের ওপর হামলা করা হয়েছে।”

বিক্ষোভে বিভিন্ন হল সংসদের নেতাকর্মীসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। তারা দ্রুত বিচার ও ভবিষ্যতে এমন দমনমূলক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার দাবি জানান।