কক্সবাজারের রামু উপজেলায় এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের মাঝিরকাটা বেলতলী মসজিদ এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত শফিউল আলম ওরফে লেদা পুতু (৩২) ওই এলাকার মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় শফিউল ভাত খাচ্ছিলেন, তখন তাকে জরুরি ফোন করে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং এরপর গুলি করা হয়। হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় পুলিশ ও সূত্র জানায়, এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন প্রতিপক্ষ ডাকাত ও সন্ত্রাসী আব্দুর রহিম। তিনি হঠাৎ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শফিউল আলমকে লক্ষ্য করে গুলি চালান, যা ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে। এলাকায় প্রচলিত খবর অনুযায়ী, শফিউল আলম কক্সবাজারের কুখ্যাত ডাকাত শাহীন কারান্তরীণ হওয়ার আগে তার সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে কাজ করতেন এবং তার সাম্রাজ্য পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন।
খবর পেয়ে গর্জনিয়া ফাঁড়ি পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। স্থানীয়রা জানান, রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চোরাকারবারি ও ডাকাতির আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। শাহীন ডাকাত কারান্তরীণ হওয়ার পর এই অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণে আব্দুর রহিমের প্রভাব বাড়তে থাকে এবং তারই দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
রামু থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তবে হামলাকারীরা পুলিশের আগমনের আগে শফিউল আলমকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য তদন্ত চলছে এবং সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শী ও নিরাপত্তা কক্ষের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এই হত্যাকাণ্ড এলাকায় সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করেছে, এবং পুলিশ তাদের সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।