ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১২ ঘণ্টা পর এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের টেংরাখালির মাঠে একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত যুবকের নাম জসিম উদ্দিন (৩০)। তিনি দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মোক্তার আলীর ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে জসিম উদ্দিন ঘাস কাটার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সহায়তায় সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালানো হয়। তবে সারাদিন কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে টেংরাখালির মাঠ দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন গ্রামবাসী একটি ভুট্টাক্ষেতে একজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে হরিণাকুণ্ডু থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সেটি ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহতের প্রতিবেশী জহিরুল ইসলাম জহির জানান, মরদেহের গলায় স্পষ্ট ফাঁসের দাগ দেখা গেছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এসব আলামত দেখে স্থানীয়দের ধারণা, জসিম উদ্দিনকে প্রথমে মারধর করা হয় এবং পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হতে পারে।

এ বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে একটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।