ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতায় যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জেলার মোট ৮৪০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৬৬টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এসব কেন্দ্রে ইতোমধ্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা সদস্যের সংখ্যা। ঝুঁকিপূর্ণ ও অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের গায়েও থাকবে বডি ক্যামেরা।
নিরাপত্তা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঝুঁকির দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে খুলনা-৬ সংসদীয় আসন। এ আসনের ৮৩ দশমিক ২২ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিতে রয়েছে খুলনা মহানগরের ১ থেকে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড এবং আড়ংঘাটা ও যোগীপোল এলাকার একাংশ নিয়ে গঠিত খুলনা-৩ আসন, যেখানে প্রায় ৪৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা-১ আসনের ১১৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৬টি, খুলনা-২ আসনের ১৫৭টির মধ্যে ১০৫টি, খুলনা-৩ আসনের ১৫৫টির মধ্যে ৭৭টি, খুলনা-৪ আসনের ১৪৪টির মধ্যে ৯৫টি এবং খুলনা-৫ আসনের ১৫০টির মধ্যে ৮৩টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, সাধারণ ভোটকেন্দ্রে তিনজন পুলিশ ও ১৩ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে থাকবেন চারজন পুলিশ এবং অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে কর্মকর্তাসহ পাঁচজন পুলিশ ও ১৩ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি মোবাইল পেট্রোলিং, স্ট্রাইকিং রিজার্ভ এবং দুর্গম কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ টহল জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিজিবিও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
খুলনার জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আ স ম জামশেদ খোন্দকার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ৫৫৮টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রায় ৩০০টি অতিগুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশের বডি ক্যামেরা থেকে সরাসরি পুলিশ হেডকোয়ার্টারে মনিটরিং করা হবে। এছাড়া মাঠে থাকবে প্রায় ১ হাজার ২০০ সেনা সদস্য। সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।