নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের নির্বাচনী প্রচারণায় দেওয়া এক যুবদল নেতার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে দেওয়া ওই বক্তব্যে তিনি বলেন, “১২ তারিখে ধানের শীষে ভোট দিয়ে প্রমাণ করবো আমরা পাকিস্তান”—যা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নাটোরের সিংড়া উপজেলার শেরকোল এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায়। সেখানে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম আনুর উপস্থিতিতে বক্তব্য দেন সিংড়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুল মালেক। তার ওই মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই ভাইরাল হয়।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বক্তব্যের একপর্যায়ে আব্দুল মালেক বলেন, শেরকোল ইউনিয়নের ৬ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডকে স্থানীয়ভাবে ‘পাকিস্তান’ বলা হয়। এরপর তিনি দলীয় আনুগত্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বিএনপি করা ও ধানের শীষে ভোট দেওয়ার মাধ্যমেই সেটি প্রমাণ করা হবে। তার এই বক্তব্য অনেকের কাছে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী বলে মনে হয়েছে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই বক্তব্যটিকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উসকানিমূলক বলে আখ্যা দেন। সমালোচনার মুখে পড়ে অভিযুক্ত যুবদল নেতা আব্দুল মালেক দাবি করেন, বক্তব্য দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত শব্দটি মুখ থেকে বের হয়ে গেছে। তার ভাষায়, এটি ছিল অনিচ্ছাকৃত এবং ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নাটোর জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ বলেন, বক্তব্যটির পেছনের প্রেক্ষাপট পরিষ্কার হওয়া জরুরি। তিনি বলেন, যদি এটি নিছক স্থানীয় উপমা বা পাল্টা বক্তব্য হয়ে থাকে, তবে তার ব্যাখ্যা প্রয়োজন। তবে পাকিস্তানি মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে এমন কথা বলা হলে তা গুরুতর অপরাধ এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হতে পারে।

এদিকে নাটোর জেলা যুবদলের সভাপতি এ হাই তালুকদার ডালিম জানিয়েছেন, বিষয়টি দলীয়ভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য পর্যালোচনা করা হবে। দলের নীতিবিরোধী কিছু প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনায় নির্বাচনী পরিবেশে ভাষা ও বক্তব্যের দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।