বরিশালের দ্বীপ উপজেলা মেহেন্দীগঞ্জে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নদী শাসনের নামে বছরের পর বছর প্রকল্প নেওয়া হলেও প্রকৃত অর্থে নদী রক্ষা হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “নদী শাসন নয়, এখন সময় নদী সংস্কারের। নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে, মানুষ বাঁচবে।”

শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় একটি মাঠে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশের দুর্নীতি, নদী ব্যবস্থাপনা, কর্মসংস্থান ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে তিনি বলেন, গত পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে দেশে দুর্নীতি একটি কাঠামোগত সমস্যায় রূপ নিয়েছে। রাজনৈতিক আশ্রয়ে দুর্নীতিকে লালন-পালন করা হয়েছে বলেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির গোড়া থেকেই তা উপড়ে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নদী শাসনের নামে যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হয়েছে, তার বেশিরভাগই লোক দেখানো। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হয়েছে, ভাঙন বেড়েছে এবং নদীকেন্দ্রিক জনজীবন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। তিনি মনে করেন, পরিকল্পিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক নদী সংস্কার ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।

যুবসমাজের প্রসঙ্গে তিনি বেকার ভাতা নীতির বিরোধিতা করে বলেন, যুবকদের বেকার ভাতা দিয়ে নির্ভরশীল করে তোলা হবে না। বরং দেশের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন ও টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে তাদের অগ্রাধিকার। তার ভাষায়, “যুবকরা ভিক্ষা নয়, কাজ চায়।”

বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ৫৪ বছরে যারা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত হয়েছে, উন্নয়নের যাত্রা শুরু হবে সেখান থেকেই। একই সঙ্গে তিনি আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, প্রথম গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে মুক্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়া।

সমাবেশে মেহেন্দীগঞ্জসহ বরিশালের বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেন। মঞ্চে জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের জামায়াত ও জোটের প্রার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।