জুলাই পরবর্তী দেড় বছরে দেশে ২৩২ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় পরিবারতন্ত্রের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো রাজতন্ত্র নয়; এখানে শুধু রাজার ছেলে রাজা হবে—এই ধারণা ভেঙে দিতে হবে। একজন কৃষকের সন্তান যদি যোগ্য হয়, তবে জনগণের দায়িত্ব তার হাতেই তুলে দেওয়া উচিত।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের বিপুল সম্পদ লুটপাট করে দেশকে বিদেশি ভোগবিলাসের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করা হয়েছে। তার দাবি, এই সময়ের মধ্যে প্রায় ২৪০ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে এবং পরিকল্পিতভাবে ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, যেসব ঋণখেলাপি ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা দেশের অর্থনীতিকে দেউলিয়া করেছে, তাদের মধ্য থেকে অন্তত ২৬ জনকে আবারও নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যা নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েমের ইঙ্গিত।

বিএনপিকে সরাসরি আক্রমণ করে শিবির সভাপতি বলেন, তারা ক্ষমতায় থাকাকালে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। কৃষকদের পাঁচ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ মওকুফ, স্বাস্থ্য বীমা, বেকার ভাতা কিংবা সারের ন্যায্যমূল্য—কোনো প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়ন হয়নি। “কথা দিয়ে কথা না রাখার প্রমাণ জাতি বহুবার পেয়েছে,”—বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের পরবর্তী সময়ে দেড় বছরের মধ্যে ২৩২ জন বনি আদমকে হত্যা করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর একাধিক নেতাকর্মীকেও পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষমতার লোভে আইয়ামে জাহিলিয়াতের মতো সহিংসতা চালিয়ে মানবতাকে পদদলিত করা হয়েছে। যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই এত হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে, তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দেশকে শ্মশানে পরিণত করবে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ‘নতুন বাংলাদেশের সূচনা’ আখ্যা দিয়ে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম ইনসাফ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকসুর সাবেক জিএস এসএম ফরহাদ, চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম রনি এবং জেলা ও স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ।