১৯৭১ সালের উত্তাল দিনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কালজয়ী ভাষণ শুনেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন বাগেরহাট-১, ২ ও ৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও মুক্তিযোদ্ধা এমএএইচ সেলিম। তিনি বলেন, দেশপ্রেমের সেই আহ্বান তাকে ঘর ছাড়তে বাধ্য করেছিল এবং তিন মাসের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে তিনি সরাসরি রণাঙ্গনে যোগ দেন।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাগেরহাটের গজালিয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন এমএএইচ সেলিম। জনসভায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছিলেন বলেই আজ দেশের মানুষ ভোটের অধিকার পেয়েছে। সেই অধিকার রক্ষায় তিনি আজও আপসহীন।

এমএএইচ সেলিম বলেন, “আমি যদি নির্বাচিত হই, তবে কোনো দল বা গোষ্ঠীর এমপি হব না। আমি হবো বাগেরহাটের সব মানুষের এমপি।” তিনি জানান, সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলে সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াই হবে তার প্রধান অঙ্গীকার। ঘের দখল, চাঁদাবাজি, জোরপূর্বক লবণ পানি ঢুকিয়ে কৃষিজমি নষ্ট করা—এ ধরনের কর্মকাণ্ড আর চলতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

জনসভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, বাগেরহাটের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে দখলবাজি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব চলছে। এমএএইচ সেলিমের মতো একজন মুক্তিযোদ্ধা ও সৎ মানুষ নির্বাচিত হলে সেই অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব। তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনী মাঠে নানা ধরনের বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। কোথাও নির্বাচনী অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কোথাও ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে এবং নেতাকর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

বক্তারা আরও বলেন, এসব ভয়ভীতি দেখিয়ে জনগণের রায় থামানো যাবে না। এবারের নির্বাচনে বাগেরহাটের মানুষ যোগ্যতা, সততা ও দেশপ্রেমকে গুরুত্ব দেবে। তারা প্রত্যাশা প্রকাশ করেন, ভোটের মাধ্যমে দখলদার ও দুর্নীতিবাজ রাজনীতির অবসান ঘটবে।

জনসভায় বিএনপি নেতা মেহেবুবুল হক কিশোর, মো. মুনসুর শিকদারসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।